বুঝের বুনিয়াদ

bujher Buniayd- Hidayat - Miftahul Uloom
হিদায়াত

বুঝের বুনিয়াদ

বুঝ মানে হেদায়াত। হিদায়াতের জন্য মুজাহাদা করতে হয়। কিন্তু হিদায়াতের বুনিয়াদ হচ্ছে ওয়াহী। কুরআন ও হাদীসের ইলম। এই ইলমের বুনিয়াদের উপর মেহনত করলেই হিদায়াত আসে। নাহলে মেহনত মুজাহাদা সন্ন্যাসী, ঠাকুর এরাও করে। কত ধরণের মুজাহাদা যে এরা করে তা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। 

কিন্তু এদের শত মেহনত কোন কাজে আসবে না। এরা হবে দোযখের ইন্ধন। কারণ এদের মেহনতের বুনিয়াদ ওয়াহী নয়। 

একটা আয়াতের সঠিক মর্ম, একটা হাদীসের সহীহ অর্থকে সামনে রেখে যখন মেহনত হবে, তখন ঐ আয়াত ও হাদীসের হিদায়াত জীবনে প্রতিফলিত হবে। সঠিক কথার বার বার আলোচনাটাই মেহনত। কুরআন ও হাদীসের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস সামনে রেখে একজন তালিবে ইলমের হিদায়াত হাসিলের মেহনত এবং একজন সাধারণ মানুষের অল্প সময় নিয়ে কিছু সীমাবদ্ধ সিলেবাসের মধ্যে মেহনত – এক্ষেত্রে কোন পার্থক্য নেই।

মাদ্রাসায় যদি কুরআন ও হাদীসের সঠিক মতলব ছাত্রদের সামনে পেশ করতে পারে এমন উস্তাদের  অভাব হয়ে যায়, ছাত্রদের হিদায়াত যেমন বাধাগ্রস্ত হবে, ঠিক তেমনই জামাতে সঠিক বুঝের অধিকারী মানুষের অভাব হয়ে গেলে সাথীদের হিদায়াত বাধাগ্রস্ত হবে।

প্রথমটির তুলনায় দ্বিতীয়টি কোন কোন ক্ষেত্রে বেশি ভয়াবহ। কারণ প্রথমটির ক্ষেত্রে ছাত্রের সামনে কিতাব থাকে। সে শরাহ-শুরুহাত দেখে ,কোন সিনিয়র ছাত্রের পরামর্শ নিয়ে কোনমতে সঠিক বুঝের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে।কিন্তু দ্বিতীয় ক্ষেত্রে তার অবকাশ থাকে না। কারণ এখানে কিতাবী তালীম বাদে বাকী সব বয়ান ,মুজাকারা কেবলই শুনার উপর নির্ভর। যাচাই করার সুযোগ প্রায়ই থাকে না। বলনেওয়ালা অনেক ক্ষেত্রেই সীমালঙ্ঘন করে ফেলে যদি উছুলের পাবন্দ না  হয়। কাজেই এক্ষেত্রে উছুলের পাবন্দী খুব জরুরী ।নইলে গোমরাহীর দরজা খুলে যাবার সম্ভাবনা প্রবল।

কাজেই সাময়িক কোন  অস্থিরতায় নিজের মতকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য উছুলকে খেল বানানো কিছুতেই উচিত নয়। পরামর্শকে প্রহসন বানানো,বিভিন্ন ধরনের চালবাজি, সাধারণ সাথীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো খিয়ানত। এতে মেহনত বরবাদ হবে।